Monday, July 17, 2017

আমার কবিতাযাপন ০ মুরারি সিংহ

আমার কবিতাযাপন ০ মুরারি সিংহ
একটা কিছু লিখতে হবে। আমার কবিতা-যাপন নিয়ে। ‘নিনি’ পত্রিকার দুই মাননীয় সম্পাদকের অনুরোধ। যারা আমার খুবই নিকটজন এবং বিশেষ প্রিয়। সুতরাং সকালবেলায় কাগজকলম নিয়ে বসতেই হল। বসলাম তো বটে, কিন্তু লিখবটা কী! কিছুই যে মাথায় আসছে না।
অতঃপর ভাবতে থাকি।
অবশ্যই এবারই প্রথম নয়। নিজের সোয়া-ইঞ্চি বিদ্যেবুদ্ধি দিয়ে জীবন এবং জগতের চারপাশ নিয়ে মাঝেমধ্যেই এই রকম ভাবতে বসি। তখন রাশি রাশি জিজ্ঞাসাচিহ্ন মাথর ভেতর কিলবিল করতে থাকে। কেউ কেউ আবার নাক-কান-চোখ-মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসে কালো কালো বাদুড়ের মতো ঝুলতে থাকে। কিন্তু হায়, কী আর বলব - সকলের উত্তরে থাকে প্রাচীন-তুষারে ঢাকা এক দুর্লঙ্ঘ্য হিমালয় পর্বতমালা। আমি যতই ভেবে মরি, সে থাকে নির্বিকার নিরাসক্ত অচল অটল। একই সঙ্গে যেন চিররহস্যময় এবং চিরপ্রশান্ত।
তখন এক গাছ-আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। নিজেই নিজের মুখোমুখি হই। নিজেই নিজের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিই আচ্ছা এই আমি মানুষটা আসলে কে! সেকি কোনো রাজা-মহারাজা-নবাব-বাদশা বা লাটসাহেবের-নাতি যে সব সময় ছলে-বলে-কৌশলে নিজের রাজ্যপাট বাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করছে। এই আমি-মানুষ কি সুবেদারি উমেদারি গোমস্তাগিরি বা সরকার বাড়ির বাসন-কোসন মেজে নাম-যশ-অর্থ-প্রতিপত্তি-পুরস্কার-সম্মান বগলদাবা করার চেষ্টায় মত্ত!  
কিন্তু নাঃ, তাতো নয়! এই আমি তো নিতান্ত হেঁজি-পেঁজি এক নগন্য নাগরিক। আরো লাখো লাখো জনগণের ভিড়ে মিশে থাকা একটা মুখ। একটা সংখ্যা। ভোটার তালিকা বা আদমসুমারিতেও যে এক সংখ্যাটিকে যোগ করে। তার বেশি তো কিছু নয়। তাহলে তাকে এত প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে কেন!
তখন নিজেকে আবার প্রশ্ন করি আচ্ছা নিনি পত্রিকার সম্পাদক দুজন যে তোমাকে কবি ঠাউড়ে নিয়ে কী সব গূঢ় প্রশ্নপত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে তোমার গূঢ় সমাচার সম্পর্কে অবগত হতে চাইছে, তার মানে তুমি কী একজন কবি!
তাই শুনে সেই আমি-মহাশয় কোনো উত্তর দেয় না শুধু মিটিমিটি হাসতে থাকে। আর তখনি তার পকেট থেকে ঘামে-ভেজা রুমালটা বেরিয়ে এসে একটা হুনো বেড়ালের রূপ ধারণ করে প্রশ্নগুলোকে চুনোমাছ ভেবে খেয়ে ফেলে। হঠাৎ পথকুকুরের চিৎকারে তখন আমার আমি হুঁশে ফিরে আসি। দেখি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সেই নড়বড়ে চৌকিতে বসে আছি, হাতে ডটপেন। আর খোলা জানলা দিয়ে আসা উত্তরে হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে ছেলের খাতা থেকে ছিঁড়ে নেওয়া একটা সাদাপাতা।
এখন এই প্রান্তজনের কবিতাভাবনা নিয়ে যদি কিছু বলতে বলা হয় তাহলে বলি তিন ছিদেমের বুদ্ধি দিয়ে যা বুঝি তাতে কবিতা আমার কাছে কোনো বস্তু নয়, মূর্তি নয়। তা আবহমান এমন এক সত্তা যার কোনো মুখ নেই শরীর নেই অবয়ব নেই। অথচ আমাদের মধ্যে এমন অনেক এলেমদার আছেন যারা নিজের নিজের মতো করে তার মুখশ্রী রচনা করছেন। তার শরীরে গয়না পরাচ্ছেন। তার মুখে লাগাম নিয়ে তাকে বশীভূত করে নিজেদের পোষা ময়না বানাতে চাইছেন। তাকে দিয়ে অনেক ছেঁদো বুলি আওড়ানো করাচ্ছেন। তার মধ্যে নীতি-আদর্শ গুঁজে দিচ্ছেন, পাপ-পুণ্য বিচার গুঁজে দিচ্ছেন । তার আষ্টেপৃষ্ঠে বিপ্লবের দাহ দিচ্ছে্ন। তার মনে আবেগ জরজর মায়ামমতা দিচ্ছেন। তার মগজে বুদ্ধির নানান কেরামতি চাপিয়ে দিচ্ছেন। ছলোছলো কবিত্ব দিয়ে তাকে করতে চাইছেন সুরেলা ছন্দময় সুখি-সুখি অথবা দুঃখ-কষ্টে মাখো-মাখো বিরহকাতর বিধুর ও ব্যথাতুর। আহা কতো মধুর ও মনোরম সেইসব প্রকাশ।
এবং কী আশ্চর্য সব কিছুর সঙ্গেই কবিতা সমানভাবে মানিয়ে নিচ্ছে কিন্তু কোনো কিছুতেই সে আবদ্ধ থাকতে চাইছে না। সে ডানা মেলে আরো আরো উড়ছে চাইছে অনন্ত আকাশে। সে শেকড় ছড়িয়ে দিতে চাইছে মাটির আরো নীচে জমে থাকা আদিম অন্ধকারের দিকে। সে গড়িয়ে পড়তে চাইছে ছড়িয়ে পড়তে চাইছে আকাশ-পাতাল-অন্তরীক্ষ সবখানে। অথবা চাইছে নয়, সৃষ্টির আগে থেকেই সে সৃষ্টির সবকিছুর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে। একই সঙ্গে সে যেন কোথাও নেই। এই পার্থিব জগৎ নিয়েই কবিতার কারবার অথচ সেখানে তার কোনো ছায়া পড়ছে না। সে যেন সব সময় নিজেকে লুকিয়ে রাখছে। এক অনন্ত রহস্যময় এবং বিস্তর হেঁয়ালিতে ভরা কুহেলিকায়। তাকে ছুঁয়ে ফেলেছি মনে করে মুঠো খুলে যা পাচ্ছি তা দু-চারটে সামান্য খড়কুটো মাত্র। আমরা যারা কবিতাপ্রেমী জনগণ সেই খড়কুটো দিয়েই কবিতার ঘরবাড়ি বানাচ্ছি।  
এখন এই নরাধম কবি কিনা এই প্রশ্নের ভিতরে যদি ঢুকি তাহলে বলতে হয় সত্যিই তো আমি একজন মামুলি মানুষ। বিশেষত্বহীন। মাহাত্ম্যহীন। তুচ্ছ। পায়ের তলার মাটির মতো। পথের পাশের ঘাস ও আগাছার মতো। এক আমজনতা। গত বিশ-পঁচিশ বছর ধরে কবিতার নামে কিছু কথা লিখে গেছি বটে, জানি না সেগুলি আদৌ কবিতা হয়েছে কিনা। তবে সিলেবাস-নির্ভর বিদ্যায়তনিক দিক থেকে দেখলে অবশ্যই সেগুলো কোনো কবিতা নয়। কিছু শব্দের জাগলারি মাত্র। কারণ সেসব লেখার কোনো ভাবগম্ভীর অর্থ হয় না, কোনো ডিমার্কেটেড সহায়িকা হয় না। বিশেষজ্ঞমহলের অনেকের কাছেই তা শব্দের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
তবু যদি প্রশ্ন করেন তাহলে কবিতার নামে এইসব হাবিজাবি লেখার কী দরকার। তার চেয়ে অন্য কাজে মন দিলে বাঙলা কবিতা অন্তত কিছু বাড়তি আবর্জনার হাত থেকে রেহাই পেত। তাহলে বলতে হয় মাপ করবেন ভাই, আমাকে নিয়ে ওত দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আমি কোনো মতেই কবিযশোপ্রার্থী নই। কোনোদিনই ভাবিনি কবিতা লিখে ইত্যাদি-প্রভৃতি অর্জন করে নেব অথবা কারো বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে প্যাঁচ-পয়জার মেরে তার প্রাপ্য পুরস্কার বা সম্মান ছিনিয়ে নেব। আমি লেখালিখি করতে এসেছি এক আন্তরিক ভালোলাগা ও ভালোবাসার জায়গা থেকে। আমার অনেক কিছুতে হয়ত খাদ থাকতে পারে, এই স্বীকারোক্তিটা কিন্তু বস একেবারে হলমার্ক লাগানো নিখাদ। সাংসারিক জীবনের বিষয় ভাবনার বিষে প্রতিদিন নানা ভাবে জর্জরিত হতে হয়, ক্ষয়ে যেতে হয়। অহরহ হাঁপিয়ে উঠি। শ্বাসবায়ু কম পড়ে। তখন ফুসফুসে একটু তাজা অক্সিজেন দরকার হয়। বুক ভরে নিশ্বাস নেবার দরকার হয়। ইঁট-কাঠ-কংক্রিটের শহরে একটা উন্মুক্ত পরিসরের দরকার হয়। কবিতা আমার কাছে সেই উন্মুক্ত পরিসর। একটা অন্য রকম আনন্দের জায়গা। যে আনন্দ জগতের অন্য কোনোকিছুই আমাকে দিতে পারে না। সেই আনন্দের গরজেই আমি কবিতার কাছে আসি। সারাদিনের কাজকর্মের ফাঁকফোঁকরে। বিস্তর ঠাট্টা-উপহাস-নিন্দা-সমালোচনা-গালাগালি উপেক্ষা করে। আর যারা এই সব শব্দ-প্রতিমাকে আবর্জনা হিসেবে ভাবছেন তাদেরও বলি এসব প্লাস্টিক-লেখালিখি নয়, সবই বায়োডিগ্রেডেবল। সবুর করুন সময়ের করাল গ্রাসে আপসেই তা হারিয়ে যাবে। কোনো পরিবেশ দূষণ ছাড়াই।   
আসলে আমার কাছে কবিতা আমার পরকীয়া নায়িকা। তাই তার কাছে আমার কোনো দায় নেই, দায়িত্ব-কর্তব্যও নেই। আমি মুক্ত ও ফুরফুরে মন নিয়ে কবিতার কাছে যেতে পারি। যখন খুশি। যেমন খুশি। ইচ্ছে মতো তাকে উপভোগ করতে পারি। নিজের মতো করে তার সঙ্গে মাল-মশলা মেশাই। নিজস্ব রেসিপিতে কবিতা রান্না করি। সেই আবছায়া আমার সঙ্গে লুকোচুরি খেলে। কানামাছি খেলে। রুমালচুরি খেলে। আমিও তার সঙ্গে ফুটবল খেলি। নৈশ ফুটবল। একটু মাংসপন্থী মন নিয়ে। সেই খেলাই কখনো নিজেই ফুটবল হয়ে মাঠময় গড়াতে থাকি। আবার নিজেই সেন্টার ফরোয়ার্ড হয়ে বিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙতে না পেরে ব্যাকভলিতে ফেল করি এবং অবশেষে নিজের গোলেই নিজে বল ঠেলি তাতে যদি দু-একজনও গোল গোল বলে চিৎকার করে ওঠে তাতেই আমার আনন্দ।
নানান শব্দ নিয়েও আমি খেলতে ভালোবাসি। শব্দদের নিয়ে লোফালুফি করতে করতে যে নানান রহস্য নানান হেঁয়ালি নানান মজা তৈরি হয় আমার তা ভালো লাগে। আমি তাদের ভালোবাসি। মাঝে মাঝে মনে হয় বটে কবিতা লেখা একটা তপস্যার ব্যাপার। কিন্তু কী বিদ্যা-অর্জ্ন কী প্রেম-নিবেদন, কী কবিতা-লিখন- আমি তো কোনো তপস্যাতেই কোনোদিন পাশ করতে পারিনি। তবু লেখা থেকে সরে আসতে পারি না। মাঝেমাঝেই মাথার মধ্যে কিছু পোকা কিলবিল করে ওঠে। তখন মনে হয় আমারও তো একটা ব্যক্তিসত্তা আছে। আমারও কিছু মুদ্রাদোষ আছে। কিছু ইগো আছে। সেই ব্যক্তিসত্তার কিছু খেয়াল আছে। সেই সব খেয়াল আমাকে অবশ করে রাখে। আমি আমার মুদ্রাদোষ দিয়ে সেই ইগো দিয়েই নিজের লেখালিখিকে শুদ্ধ করে নিতে চাই। তা কবিতা হল কী হল না তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমি চূড়ান্ত অমীমাংসার কোলাহলে বাস করি। লেখালিখির মাধ্যমে তৈরি হওয়া কিছু ক্ষণজীবী আনন্দের মধ্যে সাঁতার কাটতে চাই, সেই আনন্দ আর কিছু না পারুক আমার প্রাণশক্তিকে মরচে পড়ার হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করে।
এবার আসি পাঠকের প্রসঙ্গে। কবিতার পাঠকের ব্যাপারটাও আমার কাছে খুব স্পষ্ট নয়, বরং একেবারেই ধোঁয়াটে। কারণ একটা সময় ছিল যখন কবিতা ছন্দমিল অন্ত্যমিল সুর তাল নাচ গান নাটক এবং সবার উপরে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ সব মিলেমিশে একাকার হয়ে ছিল। সব মিলিয়ে সেটা ছিল একটা প্যাকেজ। একই সঙ্গে তা ছিল জনমনোরঞ্জন ও গণবিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। তখন কবিতা সর্বজনগ্রাহ্য ছিল। কবিগান পাঁচালি কথকতা কীর্তন বাউল বচন হেঁয়ালি ছড়া সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছতে পেরেছিল। প্রায় আটশো বছর ধরে এটাই চলে আসছিল। কিন্তু তারপর আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কবিতার অঙ্গ থেকে এক একটি বাহুল্য খসে পড়তে পড়তে এখন তার যা চেহারা তা শুধু মুষ্টিমেয় কিছু ড্রয়িংরুম-সিদ্ধ এলিট মানুষের একান্ত চর্চার বিষয়। সেখানে প্রান্তজনের প্রবেশ নিষেধ। আবার এই সময়ের অজস্র আমোদগেড়ে গণবিনোদনের রমরমায় কবিতার অবস্থা আরো কোনঠাসা। এখনো যে কজন কবিতার প্রতি আগ্রহ দেখান তাদের একটা বড়ো অংশ আবার বাজার তৈরি রাজকবি সভাকবিদের গতানুগতিক ছেঁদো কবিতাকেই কবিতার পরাকাষ্ঠা ভেবে নেন। সমাজের তথাকথিত নানান বড়ো বড়ো অবস্থান দখল করে থাকার কারণ তারা বেশ উন্নাসিক। নতুন লেখালিখিকে উৎসাহ দেবার ব্যাপারে তারা শুধু যে উদাসীন তাই নয় বরং তাদের প্রতিক্রিয়া বেশ বিরুদ্ধপ্রবণ এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভরা হিংস্র। তাদের ব্যক্তিগত মতামতকে অশ্রদ্ধা বা অসম্মান করার ধৃষ্টতা আমার নেই। আবার সেইসব গোলা-পাঠকের কাছে আমার কোনো দায়বদ্ধতাও নেই। আগেই বলেছি আমি লেখালিখি করি নিতান্ত নিজের খেয়ালে। কারো ভালো লাগলে পড়বে। না লাগলে পড়বে না। আমার কী যায় আসে তাতে। আমি তো আর কবিতা বিক্রি করে পেট চালাই না। তবে হ্যাঁ এখন ফেসবুক ব্লগ হোয়াটসঅ্যাপের কল্যাণে হঠাৎ হঠাৎ কিছু ইতিবাচক পাঠপ্রতিক্রিয়া পাই। বুঝতে পারি আমার লেখালিখি অন্তত কিছু মানুষ তাহলে পছন্দ করেন। আমি তাদের আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।
আরে বাঃ। এতো বেশ মজা। কী ছাইপাঁশ লিখি নিজেই যখন জানি না তখন সম্পাদক দুজনের খোঁচা খেয়ে বলব না বলব না করেও পেট থেকে এতো কথা বেরিয়ে আসছে। কিন্তু ওই যে কবিতার সঙ্গে আমার গূঢ় সম্পর্কের কথা। সে ব্যাপারে কী বলব। জীবনানন্দের কবিতায় এই রকম গূঢ় বা প্রগাঢ় ব্যাপার-স্যাপার কিছু পড়েছিলাম বটে। আবার অল্পস্বল্প পড়াশোনা করতে গিয়ে জেনেছি সহজিয়া সাধকদের গানে এই রকম অনেক গূঢ়-রহস্য আছে। যা নাকি আগাগোড়া দেহবাদী চিন্তার ফসল। আমার লেখালিখি বা চিন্তা-ভাবনায় সেরকম কি কিছু আছে। কী জানি। তবে সেদিন একটা বিশেষ কাজে জঙ্গলমহলে যেতে হয়েছিল। সেখানে বনের মধ্যে হঠাৎ এক খেজুর-রসের মহল আবিষ্কার করে প্রথমে বেশ রোমাঞ্চিত হলাম। আরপর তিরিশ টাকা খরচ করে হাফ-কিলো নলেন গুড় সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে এলাম। জানি না মহলদার তার মধ্যে ভেলিগুড় বা চিনিজলের ভেজাল দিয়েছিল কিনা। সেদিন এক জঙ্গলের মানুষকে বিশ্বাস করেই ট্যাঁকের কড়ি খসালাম। সেই গুড়-রহস্য সমাধানের চেষ্টা করিনি। কারণ আমি আবার হাই-ব্লাডসুগারের পেশেন্ট। কবিতার সঙ্গে আমার গুঢ়-সম্পর্কটাও নাহয় আপাতত উহ্যই রইল।

No comments:

Post a Comment